সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কথাবার্তা সংগ্রহ

| |


শ্রী রফিক উল ইসলাম “সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কথাবার্তা সংগ্রহ” নামের একটি বই সংকলিত করেছেন। বিশাল প্রেক্ষাপটে নানান সময়ে সুনীলের সাক্ষাৎকার গুলো তিনি এমনভাবে সাজিয়েছেন যা সামগ্রিক সুনীলকে জানতে সাহায্য করে। বইটির মুখবন্ধটি লিখেছেন স্ব্য়ং সুনীল বাবু। পাঠকদের সুবিধার্থে আমি মুখবন্ধ ও সম্পাদকের বক্তব্য লেখাদুটি তুলে দিচ্ছি।

মুখবন্ধ
বিশিষ্ট কবি ও গবেষক রফিকউল ইসলাম মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে এমন সব কাণ্ড করে, যাতে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। আমার জীবনের অনেক ঘটনা ও রচনা যা হারিয়ে গেছে এবং আমার স্মৃতিতেও নেই, সেসব সে কোন অলৌকিক উপায়ে খুঁজে বার করে,তা আমি জানি না। লেখকদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের সব রচনাই মনে রাখেন; শুধু মনে রাখাই নয়, দাঁড়ি কমা সমেত মুখস্থও বলে দিতে পারেন। আর কিছুকিছু লেখক নতুন কিংবা অনেক না-লেখা বিষয়ে এমনই মগ্ন থাকেন যে পুরোনো অনেক লেখা স্মৃতি-বর্জিত হতে দেন। আমি এই দ্বিতীয় দলের। মজার ব্যাপার এই যে, কোনো কোনো হারিয়ে যাওয়া লেখা কেউ যদি সংগ্রহ করে আমার চোখের সামনে রাখেন, তার দু’চার লাইন পড়েই আমি তা চিনতে পারি। সেদিক থেকে বিচার করে বলা যায় যে, রফিক সংগৃহীত সবকিছুই তথ্যভিত্তিক ও মৌলিক। কোনো কোনো সময়ে আমার পূর্ব প্রকাশিত,অধুনা দুষ্প্রাপ্য রচনা সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার প্রয়োজন হলে আমি রফিকের বই থেকেই তা জেনে নিই। এক একসময় আমার মনে হয় যা হারিয়ে গেছে, তা যাক না, হারিয়ে যাওয়াই বোধহয় তার নিয়তি ছিল। কিন্তু রফিকের শ্যেন দৃষ্টিতে সেগুলিও ঠিক ধরা পড়ে যায়। এর মধ্যেই আমার জীবন ও রচনা বিষয়ে রফিক তিন খানা বই লিখে ফেলেছে, এবার সে হাত দিয়েছে আর এক বিস্ময়কর, বৃহৎ কাজে। আমি প্রায় পঞ্চাশ বছরের লেখক জীবনে বহুবার বিভিন্ন মানুষের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছি এবং প্রকাশের পর জমিয়ে রাখার কথা কল্পনাও করিনি। কিন্তু রফিক সেসব উদ্ধার করার কাজে নিমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক অধুনালুপ্ত ছোটো পত্রিকা, যেসব পত্রিকার নামও অনেকে জানে না এখন, রফিক কী করে যেন সেইসব পত্রিকা থেকেও সাক্ষাৎকার উদ্ধার করেছে। এই বিপুল পরিশ্রমের জন্য রফিককে অবশ্যই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয়, যদিও আমি জানি না যে এইসব সাক্ষাৎকারের কোনো মূল্য আছে কি না। তবে, অর্ধেক জীবন’ নামে আমি যে স্মৃতিকথা লিখেছি, যার পরের অংশ লেখার জন্য অনেক শুভার্থী মাঝে মাঝে আমাকে অনুরোধ জানান, আমি আর তা লিখতে রাজি নই, কিন্তু এই সাক্ষাৎকার থেকে তার অনেক উপাদান পাওয়া যেতে পারে। রফিকের এই শ্রম ও নিষ্ঠার মূল্য কতখানি তা পাঠকরাই নির্ধারণ করবেন। আমি শুধু মনে মনে মাঝে মাঝে বলি, আমার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘজীবন যাপন করো, রফিক!
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
১৭.৭.২০১২

সম্পাদকের বক্তব্য
তরুণ কবি শ্ৰীসুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ সেরে সদ্য ফিরে এসেছেন কলকাতায়। সে-বছরই (সেপ্টেম্বর ১৯৬৪) তার সঙ্গে কলেজ স্ট্রিট-এর কফিহাউসে একটি বিশেষ ধরনের বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছিলেন অন্যতম বন্ধু রূপচাদ পক্ষী ওরফে শক্তি চট্টোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য ছিল, কবিতা এবং তারই কাছাকাছি কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা। শক্তি জানিয়েছেন আগেই ঠিক করেছিলুম,একটা কন্ডাকটেড ইন্টারভিউ নেব। নতুবা আলোচনা স্বভাবতই বড়ো এলোমেলো হয়ে যায়। এক কথায় দশ কথা হয়ে পড়ে। ... সেদিনের সেই কথাবার্তায় আইওয়া-ফেরত তরুণ কবি জানিয়েছিলেন– “... দু’চারজন ছাড়া অনেকেই বাংলা যে একটা ভাষা, তাই জানে না, কবিতা দূরের কথা। খুবই দুঃখের ব্যাপার সন্দেহ নেই, তবু সত্যি। তারা চেনে ইন্ডিয়া—এতদিন ভাবত আমাদের ভাষাই বোধহয় ইন্ডিয়ান। এখন কেউ কেউ জানে হিন্দির কথা। তাছাড়া আমেরিকান সাহিত্য শুধুমাত্র আমেরিকান সাহিত্যেই সুখী, সন্তুষ্ট। তাদের অনেকেই মনে করে, তাদের সাহিত্যে যা হচ্ছে তাইই সর্বশ্রেষ্ঠ। সত্যি কথা বলতে গেলে বাঙালির ছেলের মতো সর্বভুক আমি দেখিনি। প্যারি-লন্ডনেও এক অবস্থা। আমি যত কন্টিনেন্টাল সাহিত্য সম্বন্ধে খোঁজখবর রাখি, পড়াশুনা করি, ওদের তাবড় তাবড় জ্ঞানী-গুণীও সেদিকে একেবারে ‘র’। ...’
দ্বিধাবর্জিত কথাবার্তার সেইই বুঝি সূচনা। আর সেদিনও, ২০১২-র এপ্রিল মাসে, বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান স্থপতি, বরেণ্য কবি ও কথাকার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক গভীর আড্ডায় মিলিত হলেন চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব শ্রীমতী অপর্ণা সেনের সঙ্গে। সেখানেও আরো স্পষ্ট, পরোয়াহীন, যুক্তিনির্ভর এই সর্বভূক মানুষটি— ‘...যেমন ধরো, রাবণ তো সীতাকে হরণ করলেন। অযোধ্যা থেকে তাকে বুকে জাপটে ধরে নিয়ে এলেন লঙ্কায়। অনেকখানি পথ। এই এত দীর্ঘ সময়ে একজন রূপসি নারীকে জাপটে ধরে থাকতে থাকতে একজন পুরুষের কি কোনো যৌন আকাঙক্ষাই জাগবে না? আর নারীটির শরীরে তো আকাঙক্ষা তৈরি হতে পারে। ... একটা ঘটনার কথাই ভাবো না, ধরো, রাম আর সীতা তো ১৪ বছর একসঙ্গে বনে থেকেছেন, কিন্তু সে সময়ে তাদের কোনো সস্তান হয়নি। তারপর রাবণ সীতাকে হরণ করে নিয়ে গেলেন। এরপরই সীতা গর্ভবতী হন, যমজ পুত্রসস্তানের জন্ম দেন। একবার ভেবে দেখো, ১৪ বছরেও যে স্বামী-স্ত্রীর সন্তান হয় না, সেখানে এই আকস্মিক সন্তানলাভ কেমন একটা বেমানান নয় কি? এখন আমার প্রশ্ন হল এই যে, তবে কি লব আর কুশ রাবণের সন্তান? আমরা এও জানি, রাজা মহারাজারা পুত্রার্থে বহুকিছু করতে পারতেন। তারামের মতো একজন রাজার যখন যমজ পুত্ৰলাভ হল,তিনি একবারও তাদের দেখতে গেলেন না? এটা কি সম্ভব? আসলে রামও মনে মনে জানতেন, লব আর কুশ তার সন্তান নয়।.'
প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল জুড়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাময়িকী কিংবা দৈনিকপত্রের পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে থাকা এই জেদি আর অভ্রান্ত, এই উন্মুখ আর বিতর্কিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে অনুসন্ধান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল। যিনি সুদীর্ঘসময়কালে অবিশ্রান্ত আর ভিন্নমুখী জেরার মুখেও তার বিশ্বাসে অবিচল থাকতে পারেন। কথায়-কথায় জীবনের স্বাভাবিক, দারিদ্র্যমথিত আর রোমাঞ্চকর অধ্যায়গুলি যেমন, যাপনের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা আর সাহিত্যদর্শন পরতে-পরতে মিলেমিশে তেমনভাবে এই প্রবাদপ্রতিম কবি এবং কথাসাহিত্যিকের এক পূর্ণাঙ্গ (অর্ধেক নয়) আত্মজীবনী উদ্ভাসিত করতে চেয়েছে।
২.
পরিব্রাজকের মতন প্রায় সমগ্র-বিশ্ব ভ্রমণকারী এই অকুতোভয় মানুষটিই তার ব্যক্তিত্ব আর সৃষ্টিসম্ভার নিয়ে আমাদের আগ্রহের কেন্দ্রে বিরাজ করছেন সুদীর্ঘকাল। তাকেই খুঁড়ে খুঁড়ে তার সমগ্রতার ওপর আলো ফেলতে চেয়েছেন দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষজন। বিগত প্রায় অর্ধশতাব্দীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেইসব কথাবার্তার সম্পূর্ণ নথিপত্তর সংগ্রহ করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্যপ্রায়। যতটুকুই পেরেছি, নিজের মতন গুছিয়ে দিয়েছি এখানে। একথা স্বীকার্য যে, দীর্ঘকালের বিরামহীন এইসব আলাপচারিতার ভেতর প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিস্বাভাবিক নিয়মেই ডানা বিস্তার করে আছে। ফলে আমাকেও সাধ্যমতন বর্জন করতে হয়েছে পুনরুক্তি, কোথাও বা কিছুটা মান্যতা দিয়েছি গতিময়তার কথা মাথায় রেখে। সুতরাং সংকলিত সব সাক্ষাৎকারগুলিই কমবেশি সম্পাদিত, একথা বলার অপেক্ষা থাকে না। প্রশ্নাবলির ধরন-ধারণে অনেকাংশে মিল থাকায়, কিংবা অন্যত্র প্রসঙ্গক্রমে কোনো না কোনোভাবে উত্থাপিত হওয়ায়, বেশ কিছু সাক্ষাৎকার সরাসরি বর্জন করতে হয়েছে। যাদের আলাপচারিতা একেবারেই গ্রহণ করতে পারিনি, তাদের কাছেও কোনো অদৃশ্য সূত্রে আমার কিছু ঋণ থেকে গেল।
গ্রন্থটিকে চারটি অংশে বিভক্ত করে দিয়েছি। প্রথম অংশে রইল সরাসরি প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। দ্বিতীয় অংশে আড্ডা, বিতর্ক, গোলটেবিল, দূরভাষ-কথা আর দূরদর্শন-কথা যুক্ত হয়েছে। তৃতীয় অংশটি একটু অন্যরকমের। এখানে সুনীলদা নিজেই প্রশ্নকর্তার ভূমিকায়, উত্তরদাতা যথাক্রমে উইলিয়াম রাদিচে, জ্যোতিরিন্দ্র নদী, বিকাশ ভট্টাচার্য এবং বাদল বসু। ইতিহাস রক্ষার অভিপ্রায়ে সালভাদর দালির সঙ্গে তার পরিচয়পর্ব এবং টুকরো কথাবার্তার স্মৃতিচারণা এই অংশে সংযোজিত হল। আর চতুর্থ অংশে রইল বিষয়ভিত্তিক নির্বাচিত কিছু কথাবার্তা। সব মিলিয়ে তার ব্যক্তিজীবন আর সাহিত্য-দর্শনের তুমুল প্রবহমানতায় সমগ্র কর্মকাণ্ডটি জারিত করা গেল। অল্প একটুখানি আক্ষেপ থেকে গেল শুধু। পরিচালক দীপা মেহতার সঙ্গে Water ছবিটিকে ঘিরে তার অভিযোগ এবং মামলা-সংক্রান্ত বিষয়টি এই গ্রন্থে অনুচ্চারিত থেকে গেছে। পাঠকবৃন্দের স্মরণযোগ্যতাকে মান্য করেও আমি দুটি ইংরেজি দৈনিক থেকে Water-বিতর্কের কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করে দিচ্ছি।
Deepa Mehta lifted from my book: Gangopadhyay
New Delhi, March 23
At a press conference here today, Mr. Gangopadhyay accompanied by Ms. Aruna Chakravarti, the translator of his work, said he was convinced that several works, phrases, sentences and passages had been lifted "almost verbatim" from Those Days and used in the so-called "original" English script of Water. Also, he said, several portions had been translated into Hindi by Ms. Mehta. The novelist said he came to know about the "striking similarities" through some of his journalist friends in West Bengal. For, after the script had been submitted by Ms. Mehta to the Union Ministry of Information and Broadcasting, it had been sent to the Government of West Bengal, where it became public. Mr. Gangopadhyay said not only had some dialogue been lifted directly, some situations too had been picked up. Like the character of Binduvasini in his book, he said, Water's storyline depicts a young widow, Janaki, who is sent to Varanasi where she is forced to live with a middle-aged man. While staying there she falls in love with a young boy, but circumstances force her to end her life by jumping off a boat into the Ganga.
Terming such blatant copying of ideas as "unethical", the novelist said Ms. Mehta should have sought his permission before doing so. "I would have gladly obliged her," he said. The novelist said had he been Ms. Mehta he would have definitely taken permission for using certain extracts of the novel in the film.
But now, the novelist said, the situation had become very complicated. With Ms. Mehta taking his publisher, Anand Publications, to court for defamation, the matter was out of his purview.
(The Hindu / 24-03-2000)

Case won't affect my image: Gangopadhyay
Calcutta, March 31
After receiving the court's summons, Sunil Gangopadhyay told The Hindustan Times that he was on a strong ground and the defamation case filed by film-maker Deepa Mehta would not affect his stature in the literary world. Badal Basu, the publisher of the book, and Aruna Chakraborty, the English translator of Sei Samay (Those Days), sounded eqally confident. "I have read the script of Water and I think my lawyer has a watertight case in his hands. The matter is in court and I don't want to weaken the case by talking about it," said Mr. Basu.
"Though sub-judice, I would still insist that we never defamed Deepa Mehta. Imaintain there are striking parallels between Those Days and the Water script. It is evident in the storyline, characters, situations and dialogues," Ms. Chakraborty told The Hindustan Times.
"Deepa told me that a conspiracy was being hatched to stop her shooting in Bengal and that all this was an attempt to sabotage the making of Water in India. I believed her. But Aruna pointed out there were at least 21 places where dialogues were verbatim lifted from Those Days," said Gangopadhyay.
Gangopadhyay, however, minced no words about plagiarism. "The time-frame may be different but the similarities in dialogues and situations are most unethical. It is an infringement of the Copyright Act. The story of my Bindoobashini and Deepa's Janaki are embarrassingly similar. Both have lovers, both are made to live a sinful life as a widow in Varanasi and both commit suicide by jumping into the Ganga," he said.
"Then take the instance of a zamindari house-hold I described in my novel. I have written about a headmaid, Suhagbala, who is obese and a big bully. In Deepa's script, an absolutely similar character appears in the widow ashram. Even dialogues between Suhagbala and a young maid are astonishingly similar," he added.
Gangopadhyay said that looking back he felt anguished because all along he has supported Deepa Mehta. "I even wrote an editorial in Desh magazine condemning the Hindu extremism. We also conducted a signature campaign here to demand that Deepa should be allowed to shoot in Bengal," he added. Perhaps, the novelist said, Mehta thought nobody would detect the parallels. "But whoever reads the script of my novel will easily detect the similarities. Today, I am convinced that she has plagiarised from my novel," Gangopadhyay added.
(The Hindustan Times /01-04-2000)
ধারণা হয়েছিল, সেপ্টেম্বর ২০১২ নাগাদ সংগ্রহটি প্রকাশিত হতে পারবে। কিন্তু নানান প্রতিকূলতায় আর ক্রমবর্ধিত পরিকল্পনার অনুষঙ্গে গ্রন্থ-প্রকাশে বেশ একটু বিলম্ব ঘটে গেল। এজন্যে আমরামর্মাহত। ইতিমধ্যে সুনীলদার আকস্মিক প্রয়াণের পর, বেশ কয়েকটি পত্র-পত্রিকা এবং ঘনিষ্ঠ মানুষজনের সূত্র ধরে তার আরও কিছুকথাবার্তার নথি আমার নজরে চলে আসে। যতদূর সম্ভব সেগুলিকেও অন্তৰ্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। তা সত্ত্বেও কয়েকটি ক্ষেত্রে বিষয়ের পারম্পর্য রক্ষা করা গেল না। ফলে ১৯৬৪র সেপ্টেম্বরে বন্ধু শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার যে কথাবার্তার সূচনা হয়েছিল,মৃত্যুর পক্ষকাল আগে জীবনের শেষ সাক্ষাৎকারে তার অবসান হল। পরিতাপের বিষয়, সংগ্রহটির মুদ্রিত-রূপ তিনি দেখে যেতে পারলেন না। শুধু তার ভালোবাসার কিছু কথা আমার জীবনের অন্যতম প্রেরণা হয়ে রইল।
স্বাতীদির (গঙ্গোপাধ্যায়) অবাধ প্রশ্ৰয় আমার বরাবরের পাথেয়। তার সংগ্রহে থাকা অমূল্য ছবিগুলি এবং স্বনামখ্যাত অনেক চিত্রগ্রাহকের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বহু ছবি এই গ্রন্থে ব্যবহার করতে পেরেছি। এ আমার পরম সৌভাগ্য। এবারে সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সায়ন্তন গঙ্গোপাধ্যায় আর উৎপল নস্করের আন্তরিক সহযোগিতা। সম্পাদনা-কর্মের প্রায় শেষ পর্বে কবি সুজিত সরকার নিঃশব্দে হাত বাড়িয়ে চমকে দিয়েছেন আমাকে। বানানে সমতা আনার ক্ষেত্রে আমি বরাবরই গল্পকার-বন্ধু মুর্শিদ এ এম-এর অক্লান্ত পরিশ্রমের উপরই নির্ভরশীল। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হল না। এদের সবার কাছেই আমার অশেষ ঋণ থেকে গেল। প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিকের সঙ্গে যাদের কথোপকথনে ভরে উঠল গ্রন্থটি, তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার অন্ত রইল না। খুঁড়তে-খুঁড়তে, খুঁজতে-খুঁজতে যতটুকু পারা যায়, এগিয়েছি। হয়তো ক্রটিও থেকে গেল কিছু। এরপর পাঠকবৃন্দের অনুরাগটুকু প্রার্থনা করতে থাকা।
বন্ধু বীজেশ সাহা আমাকে নিরস্তর সাহসী করে রেখেছেন। প্রশংসাসূচক কোনো বাক্যই বোধহয় তার পক্ষে যথেষ্ট নয়।
রফিক উল ইসলাম
ডিসেম্বর ২০১২