জীবনানন্দ ও তার কাল | সাল ১৯০০

| |
আজ পর্যন্ত জীবনানন্দকে নিয়ে নানা ধরনের বই লেখা হয়েছে। কেউ তার কবিতার নান্দনিকতা নিয়ে বই লিখেছেন, কেউ জীবনানন্দের ওপর পাশ্চাত্য প্রভাব কতটুকু—তা নিয়ে তাদের বইতে বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন। তার জীবনীও লিখেছেন কেউ কেউ। কিন্তু ‘জীবনানন্দ ও তার কাল'- এর মত গ্রন্থ বোধহয় এই প্রথম। উল্লেখ্য, এই বইটি তত্ত্বমূলক নয়, তথ্যবহুল। এই গ্রন্থে জীবনানন্দের ৫৫ বছরের জীবনকে সালওয়ারি বিন্যস্ত করা হয়েছে। স্বাভাবিক কারণে কেন্দ্রভূমিতে জীবনানন্দ দাড়িয়ে থাকলেও সম-সময়ের অন্যান্য সাহিত্য-কুশীলবরা এই গ্রন্থে উপেক্ষিত হননি। বইটির লেখক হরিশংকর জলদাস।
বইয়ের হাটের পক্ষথেকে আমাদের চেষ্টা থাকবে এই বইটি ধারাবাহিকভাবে পাঠকদের কাছে তুলে ধরা। হয়ত এতে বইটি হার্ডড্রাভের জায়গা নষ্ট না করে মনের জায়গায় স্থান পাবে। তাই আসুন শুরু করা যাক।

১৯০০ । বয়স ১ বছর

কাকডাকা ভোরে সংসারের কাজে লেগে যেতেন কুসুমকুমারী। অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন তিনি সংসারের জন্যে; সংসারের শেষ মানুষটির খাওয়া-দাওয়া সাঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত রান্নাঘরে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। সত্যানন্দ অনেক রাত পর্যন্ত বাতি জ্বালিয়ে পড়তেন এবং লিখতেন। শিশু জীবনানন্দের দু'চোখ ঘুমে জড়িয়ে এলেও মা ঘরে না-ফেরা পর্যন্ত ঘুমোতেন না। শীতের রাত তখন হয়তো নিথর, নিস্তব্ধ। ঘরে ঢুকে গভীর রাতে মা শিশু জীবনানন্দকে নিবিড় মমতায় কাছে টেনে নিতেন।
রবীন্দ্রনাথের বয়স ৩৯। তারকনাথ পালিতের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে কুষ্টিয়ার ব্যবসার ঋণ পরিশোধ করলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৭ বছর পর আমেরিকায় বক্তৃতা দিয়ে প্রাপ্ত অর্থ থেকে এই ঋণ শোধ করেন। বিসর্জন নাটকে রবীন্দ্রনাথ রঘুপতির ভূমিকায় অভিনয় করলেন।
ভাটপাড়ায় সংস্কৃত কলেজ স্থাপিত হল। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ৮ ডিসেম্বর সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ও বঙ্গদেশে সংস্কৃত পরীক্ষার রেজিস্ট্রর নিযুক্ত হন। প্যারিসে জগদীশচন্দ্র ও বিবেকানন্দ পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে এলেন। মুণ্ডা বিদ্রোহ শুরু হল। বীরসা মুণ্ডার নেতৃত্বে ঘুন্তি থানা আক্রমণ। বীরসার আহবানে মুণ্ডারা কয়েক বছর আগে থেকে সংগঠিত হচ্ছিল। ১৩ জানুয়ারি ইংরেজদের হাতে বীরসা ধরা পড়েন, ২৬-এ রাচির জেলে তার ফাঁসি হয়।
সমগ্র ভারতে দুর্ভিক্ষ ভীষণাকার ধারণ করে। ১২ লক্ষ ৩৫ হাজার লোক অনাহারে ও তজ্জনিত পীড়ায় মারা যায়। ব্রিটিশসৈন্য বুয়রদের রাজধানী প্রিটোরিয়া অধিকার করে। ইতালির রাজা হামবার্ট গুপ্তঘাতকের হস্তে নিহত হন। চীনের ইউরোপীয় নীতি-বিরোধী আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে। ইংল্যান্ড, ও জাপানের মিলিত বাহিনী এ আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করে।
এ বছর জন্মগ্রহণ করেন সজনীকান্ত দাস, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, প্রখ্যাত কুদরাত-এ-খুদা। "নোটস অন দ্য বেঙ্গল রেনেসাস’, ‘বাংলার ইতিহাসের ধারা', ও ‘রবীন্দ্রস্মৃতি গ্রন্থের লেখক ‘রবীন্দ্র পুরস্কারে (১৯৮১) ধন্য সুশোভন সরকারের জন্ম। আমেরিকান সাহিত্যিক স্টিফেন ক্রেন-এর জন্ম হয় এ বছর। নারী জাগরণের নেত্রী ও 'দীপালি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা লীলা নাগের (রায়) জন্ম।
এ বছর মৃত্যুবরণ করেন রাজনারায়ণ বসু, অস্কার ওয়াইল্ড ও প্রাচ্য ভাষাবিদ জগদ্বিখ্যাত জার্মান পণ্ডিত ম্যাক্সমুলার।
প্রকাশিত গ্রন্থ : প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’, ‘কাহিনী’, ‘ক্ষণিকা", ‘গল্পগুচ্ছ—১ম ভাগ'; রবীন্দ্রনাথের রচনার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ ‘The God of the Upanishads' (অনুমান-নির্ভর অনুবাদক সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর), সত্যেন্দ্রনাথ ‘শ্রীমদভগবতগীতা’, ইসমাইল হোসেন সিরাজীর ‘অনল প্রবাহ প্রকাশ পায়।
#জীবনানন্দওতারকাল